দুবাই সংযুক্ত আরবআমিরাত এর সর্ববৃহৎ, এবং সবচেয়ে  ব্যয়বহুল শহর। এই শহরটিকে আরব আমিরাতের রাজধানী ও বলা হয়। দুবাই এর অবস্থান হচ্ছে পারস্য উপসাগরীও দক্ষিন পুর্ব স্থানে । দুবাইকে মদ্দযপ্রাচ্চচযের বাণিজ্যিক রাজধানী ও বলা হয়। এই শহরটিকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের প্রাঙ্কেন্দ্র হিসাবেও গণ্য করা হয়। যদিও তেল উতপাদন এর জন্য সারা বিশ্বে সমাদৃত সংযুক্ত আরবামিরাত, কিন্তু বর্তমানে ৫% এর ও কম আয় হয় আরবামিরাতের তেল উতপাদন এর মাধ্যমে । তেল এর পরিবর্তে এখন মুলত পর্যটন, বিমানচালনা,আবাসন, বাণিজ্য ও আর্থিক পরিসেবা দুবাই এর অর্থনীতির মুল চালিকাশক্তি । বড় বড় নির্মাণ প্রকল্প , এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে দুবাই সারা বিশ্বের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।

জনসংখ্যা অনুপাতে দুবাই এ বাস করে ২,৭৮৯,০০০ জন । ছোট্ট এই দেশটির আয়তন হচ্ছে ১২৮৭.৫ বর্গ কিঃ মি  ও জনশঙ্খার অনুপাতে প্রতি বর্গ কিঃ মিঃ এ ৪০৮.১৮ জন বাস করে যা পুরো দেশের চেয়ে আট গুন বেশি । ব্যয় এর দিক থেকে দুবাই এর অঞ্ছল এর দ্বিতীয় ব্যয়বহুল শহর ও বিশ্বের মদ্ধে ২০ তম ব্যয়বহুল শহর । দুবাই শহর এর মোট জিডিপির আকার হচ্ছে ১০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ও এই শহর এর মাথাপিছু আয় হচ্ছে $৩৫০০০ মার্কিন ডলার । দুবাই শহরে অনেক দর্শনীও স্থান আছে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি স্থান হলোঃ

 

দুবাই মলঃ দুবাই মল আরব আমিরাতের সবচাইতে উঁচু বিল্ডিং যা বুর্জ খালিফার পাশে অবস্থিত । এই শপিং মলটি প্রায় ১২ মিলিয়ন বর্গ জায়গা জুড়ে বিস্তৃত,  এবং দুবাই মল হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শপিংমল। প্রায় ৫০ টিরও ফুটবল মাঠের সমান জায়গা জুড়ে গড়ে উঠা এই মলে রয়ছে ১২০০ টি দোকান, এক্সচলুসিভ ফ্যাশন হউস, ২০ টি বিলাসবহুল হোটেল, ২২তি সিনেমা হল, বড় বড় ডিপার্টম্যানটাল এবং কয়েকশ রেস্টুরেন্ট । এছারাও দুবাই মল এ আন্ডারওয়াটার যু, দুবাই আকুয়ারিয়াম, ও থিম পার্ক সহ বিনদোনের নানা আয়োজন রয়েছে দুবাই মল এ । তাই দুবাই বেড়াতে আসলে পর্যটকদের পচ্ছন্দের শীর্ষে থাকে এই মল।

দুবাই মল করনীওঃ শপিং ছাড়াও দুবাই মল এ বিনোদনের জন্য রয়েছে নানা রকম সুযোগ সুবিধা আছে। মল এর ভিতরে ঢুকলে দেখা যাবে ৭০ দশকের ব্রমিংডেল, গ্যালারি লাফায়েতের মতো শপগুলো পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ফ্যাশান সচেতনদের জন্য রয়েছে বিশ্বখ্যাত ডিজাইনারদের বিভিন্ন রকমের কাপড় পাওয়া যায় সেখানে। এদের মধ্য ঊল্লেখযোগ্য হল ভাড়সেস, বাড়বেরির মত খ্যাতিমান সব ব্র্যান্ড গুলো। দুবাই মল এ “গোল্ড সৌক” সোনার গয়নার জন্য খুব বিখ্যাত।

এসব কিছু ছাড়াও দুবাই মল এ বেড়ানোর জন্য দ্য দুবাই একুয়ারিয়াম ও আন্ডারওয়াটার যু, বাচ্চাদের পছন্দের কিন্ডাজিয়া সহ আরো অনেক কিছু আছে।

 

  • দ্য দুবাই ফাউন্টেন : পুরো দুবাই শহরের মধ্যে দ্য দুবাই ফাউন্টেন এর অবস্থান হচ্ছে দুবাই মল এর সামনে এবং এটি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এই ফাউন্টেন এর কোরিওগ্রাফি এমন ভাবে করা হয়েছে, যদি কেও দেখে তাহলে ভাববে যে পানি আকাশ ছুয়ে যাচ্ছে। আর এর সাথে হাল্কা আরাবিক গান ও মাইকেল জ্যাকসনের থ্রিলার ধাঁচের গান সবসময় তো বাজতেই থাকে। এখানে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে আধ ঘণ্টা পর পর ইল্লুমিনাতি শো যা উপভোগ করার জন্য ব্যাপক লোকের সমাগম ঘটে। এছারাও দুবাই আইস রিঙ্কে অলিম্পিক আকৃতির বরফের মধ্যে স্কেটিং করার সুযোগ পাবেন। আবার বাচ্চাদের খেলার জিনিসও কিনতে পাওয়া যায় “কিন্দিযিয়ায”। এছারাও পরিবারের সবাইকে নিয়ে সিনেমা দেখার জন্য ইনডোর সিনে কমপ্লেক্স ও দুবাই এর বিভিন্ন আর্টস এর প্রদর্শনী দেখার জন্য দুবাই অপেরা। আর দুবাই ফাউন্টেন এর ঠিক উপরে আছে বুর্জ খালিফা অবসারভেশন ডেক যেখান থেকে একদম উপর থেকে ৩৭অ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেল বুর্জ খালিফার চমৎকার দৃশ্য দেখা যায় । এই দৃশ্য শন্ধার সময় বেশি শুন্দর লাগে ।

 

আরেকটি বিশেষ জায়গা হলো ভিলেজ যেখানে শীতকালে খোলা ছাদের নিচে দোকানদারদের কেনা বেচার সুযোগ করে দেয়া হয়। এর ফলে দুবাই মল এর ভেতর এ অবস্থান করেও বাইরের প্রকৃতি ও পরিবেশের অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। মুলত দুবাই মল এ আসলে শুধু শপিং ছাড়াও ঘুরে বেড়ানোর সাথে নিজেকে ব্যস্ত রাখার নানা উপকরন ছরিয়ে ছিটিয়ে আছে চারপাশে।

 

দুবাই একুয়েরিয়াম এন্ড আন্ডারওয়াটার যু : দুবাই একুয়ারিয়াম এর অবস্থান হচ্ছে দুবাই মল এর নিচতলায়। এটি প্রাইয় ৫১ মিটার লম্বা, ২০ মিটার গভীর ও ১১ মিটার উচ্ছতা বিশিষ্ট। এই একুয়েরিয়াম এ প্রায় ৩০০০ প্রজাতির সামুদ্রিক প্রানী রয়েছে, এর মধ্য ৪০০ এর বেশি রেস ও শার্ক রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হল যে এই মল এর ভিতরে অবস্থান করলে ক্রাইলিক প্যানেল এর মধ্য দিয়ে একুয়েরিয়াম  দেখা যায়। তবে এখানে ঢুকতে হলে ৪৮ মিটার লম্বা লাইন এ দাড়িয়ে টিকিট কেটে ঢুকতে হয় এবং লাইন এ দাড়িয়ে ভেতর এ ঢুকলে একুয়েরিয়ামটি ভিন্ন ভাবে দেখা যায়। যেখানে খুব কাছে থেকে শার্ক, রেইস, অক্টোপাস, ও বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক প্রানি কাচের ভেতরে ঘুরে বেড়াতে থাকে। যদি একটু সাহসী হন  তাহলে ১০ লিটার পানির ট্যাংকিতে উঠে বালুর বাঘ এর শার্ক এর মুখোমুখি হতে পারেন । এই একুয়ারিয়িম টানেল এর মধ্য দিয়ে দুবাই মল এর দ্বিতীয়

তলায় অবস্থিত আন্ডারওয়াটার যু তে যাওয়া যায়। সেখানে গেলে ৪০ টির মেরিন সাইজ এর পিরানহা, পেঙ্গুইন, কুমির, বড় টিকটিকি, সাপ, বড় ইল সহ আরও অনেক কিছু দেখা যায়। এখানে ছোট আর্চার ফিস ও তাদের নিজেদের খাবার শিকার করার পদ্ধতি দর্শনার্থীর কাছে ভীষণ আকর্ষণীয়। এছাড়াও এখানে গ্লাস বোটমোড, বোটরাইড, কেজ স্নরিইং, শার্ক ডাইভস, ও প্যাডি ডাইভিংও করতে পারেন।

 

খরচ ও সময়সূচী: সপ্তাহে সাত দিনই খোলা থাকে দ্য দুবাই একুয়েরিয়াম ও যু। প্রবেশমূল্য হচ্ছে ৫৫ দিরহাম যা বাংলাদেশী টাকার হচ্ছে ১২৬৪ টাকা। তবে ৩ বছরের নিচে বাচ্চাদের এখানে প্রবেশের কোন ফি দিতে হয় না। রবিবার থেকে বুধবার সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা ও বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার সকাল ১০টা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে বিভিন্ন প্যাকেজের মাধ্যমে ঘোরার সুযোগ আছে।

 

কুরানিক পার্ক : কুরানিক পার্ক এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল কোরানের বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনাবলির আলোকে বিভিন্ন কর্নার ও বাগানের মাধ্যমে শাজানো হয়েছে। ইসলাম ও কোরআন  সম্পর্কে দর্শ্নারথিদের আগ্রহি করে তুলতে সাহায্য করবে। কোরআনুল  করীম এ উল্লেখিত ৫৪টি গাছের সমন্বয়ে ১২ টি উদ্দ্যন রয়েছে। দর্শ্নারথিদের সুবিধার্তে কোরানের বিভিন্ন আয়াত ও ঘটনা লিখে দেয়া হয়েছে প্রতিটি স্থাপনার পাশে। উন্নত প্রযুক্তি কাজে লাগাতে পার্কে রয়েছে ডিজিটাল থিয়েটার যেখানে কোরানের বিভিন্ন ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত  ভিডিও দেখানো হয়।

 

 

 

Similar Posts

17 Comments

  1. Wow Beautiful picture 😀 I would love to go in Dubai

  2. is excellent this beach

  3. Nice article..

  4. very good!!

  5. i love dubai!!!

  6. thanks for your information/……………………

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *